Home / জানা-অজানা / সাতটি আসমান যা যা দিয়ে তৈরী ও যা যা আছে পবিত্র কোরআনের আলোকে জেনে নিন!!

সাতটি আসমান যা যা দিয়ে তৈরী ও যা যা আছে পবিত্র কোরআনের আলোকে জেনে নিন!!

আমরা আমাদের চতুর্দিকে যে অসীম বিস্তৃতি অবলোকন করি অথবা বিজ্ঞানীগণ শক্তিশালী দূরবিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে ঊর্ধ্বাকাশে যতদূর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করতে সক্ষম, সেই দূরত্বটুকুই কি সাত-আসমানের সীমানা, নাকি এর পরেও দৃষ্টিসীমার অন্তরালে আল্লাহতায়ালা আরও ছয়টি আসমানকে সাজিয়ে রেখেছেন ? – এই প্রশ্নটি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ নেই এবং এর সঠিক জবাব বিজ্ঞান এখনও পর্যন্ত দিতে পারেনি। তবে আল-কোরআনে এ বিষয়ে বেশ কিছু ইংগিত রয়েছে। বৈজ্ঞানিক ইংগিতবহ ঐশী-দিকনির্দেশনার আলোকে গবেষণাকর্ম চালিয়ে গেলে সত্যান্বেষী বিজ্ঞানীগণ অচিরেই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাবেন। এর ফলে সকল দ্বিধাদন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ সত্যকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে ও বুঝতে পারবে। যদিও আমার জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত, তথাপি এ অবধি অর্জিত যৎসামান্য জ্ঞানের আলোকে আমি এ বিষয়ে কিছু বক্তব্য পেশ করতে চেয়েছি। আসল জ্ঞান তো সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ মহান আল্লাহতায়ালার নিকটে।

মহান আল্লাহতায়ালা ‘সপ্ত-আকাশমন্ডলীকে’ আল-কোরআনে সৃষ্টি বিষয়ক আয়াতসমূহে স্পষ্টভাবে ‘ছাব`আ ছামাওয়াতি’হিসেবেই উল্লেখ করেছেন-
বিজ্ঞানের সহায়তায় আমরা জেনেছি যে, আমরা শুধুমাত্র একটি কালিক ও তিনটি স্থানিক মাত্রা দেখতে পাই এবং সেক্ষেত্রে স্থান-কাল যথেষ্ট মসৃন ( Fairly flat )। এটা প্রায় একটা কমলালেবুর বাইরের দিকটির মত। যা কাছ থেকে দেখলে সবটাই বঙ্কিম এবং কুঞ্চিত কিন্তু দূর থেকে দেখলে উঁচু নিচু দেখতে পাওয়া যায় না। মনে হয় মসৃণ। স্থান-কালের ব্যাপারটাও সেরকম -অত্যন্ত ক্ষুদ্রমাত্রায় দেখলে দশমাত্রিক এবং অত্যন্ত বঙ্কিম, কিন্তু বৃহত্তম মাত্রায় বক্রতা কিংবা অতিরিক্ত মাত্রা দেখতে পাওয়া যায় না। স্থানের তিনটি এবং কালের একটি মাত্রা ছাড়া অন্য মাত্রাগুলি বক্র হয়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র আয়তনের স্থানে রয়েছে। সেই স্থানের আয়তন প্রায় এক ইঞ্চির এক মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন, মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ। এগুলো এতই ক্ষুদ্র যে আমাদের নজরেই আসে না। সুতরাং স্পষ্টতই মনে হয়, স্থান-কালের যে সমস্ত অঞ্চলে একটি কালিক ও তিনটি স্থানিক মাত্রা কুঞ্চিত হয়ে ক্ষুদ্র হয়ে যায়নি একমাত্র সেই সমস্ত অঞ্চলেই প্রাণ অর্থাৎ প্রাণ বলতে যা বুঝি সেই রকম প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব। তবে তন্তু-ত্বত্ত্বের অনুমোদন সাপেক্ষে মহাবিশ্বের অন্যান্য এরকম অঞ্চল কিংবা এমন একাধিক মহাবিশ্ব (তার অর্থ যাই হোক না কেন) থাকার যথেষ্টই সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সমস্ত মাত্রাই কুঞ্চনের ফলে ক্ষুদ্র কিংবা যেখানে চারটি মাত্রাই প্রায় সমতল। কিন্তু সেই সমস্ত অঞ্চলে বিভিন্ন সংখ্যক কার্যকর মাত্রাগুলো পর্যবেক্ষণ করার মত বুদ্ধিমান জীব থাকবে না। দ্বিমাত্রিক জীবের কথা কল্পণা করা যাক, যদি সে এমন কিছু খায় যে তার পুরোটা হজম করতে না পারে, তবে খাদ্যের বাকী অংশটা সে যে মুখে আহার কেরেছে সেই মুখ দিয়ে বের করে দিতে হবে। অন্যদিকে যদি দেহের ভিতরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পথ থাকে তাহলে জন্তুটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে। তিনটির বেশি স্থানিক মাত্রা হলেও সমস্যা দেখা দেবে। এক্ষেত্রে দুটি বস্তুর মধ্যকার দূরত্বের বৃদ্ধির সঙ্গে মহাকর্ষীয় বলের হ্রাসপ্রাপ্তি সাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হবে। ফলে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার স্থিরত্ব হ্রাস পাবে এবং তারা হয় সর্পিল গতিতে সূর্য থেকে দূরে সরে যাবে, নয়তো সূর্যের ভিতরে গিয়ে পরবে। ( বিস্তারিত জানার জন্য ‘কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস’ স্টিফেন ডব্লু হকিং-১০ অধ্যায় দেখে নিতে পারেন। )

আল-কোরআন-
সূরা যারিয়া-অয়াত নং-৪৭
(৫১ : ৪৭) আছ্ছামা আ বানাইনা-হা-বিআইদিওঁ ওয়া ইন্না -লামূছিউ-ন।
(৫১ : ৪৭) অর্থ:- আমি আকাশ নির্মাণ করেছি ক্ষমতা বা শক্তিবলে এবং আমি অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী।
(৫১:৪৭) নং আয়াতে “আছ্ছামা-আ” অর্থাৎ ‘আকাশ’ নির্মাণের সাথে শক্তি বা ক্ষমতার বিষয়টি উল্লেখ থাকায় এমন ‘একক আকাশের’ প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে আকাশে সৃষ্টির আদি পর্যায়ে বলবাহী মৌল-কণিকাগুলো ঘনিভূত শক্তিরূপে একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে বিরাজমান ছিল। অতঃপর সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায় একদা এর মহাসম্প্রসারন শুরু হয়।
“আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি” প্রবন্ধের -‘সৃষ্টিকালীন ১ম – ইওম বা দিন’- পড়ে নিলে বুঝতে সুবিধা হবে

সূরা আম্বিয়া-আয়াত নং-৩০
(২১ : ৩০) আ অ লাম ইয়ারাল লাজীনা কাফারূ -আন্নাছ ছামা- ওয়াতি অল আরদ্বা কা- নাতা- রাতাক্বান ফাফাতাক্বনা হুমা;অ জ্বায়ালনা মিনাল মা -য়ি কুল্লা শাইয়িন হাইয়্যিন; আফালা – ইউমিনূন।
(২১ : ৩০) অর্থ:- যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু পরিগঠন করলাম পানি হতে; তবুও কি ওরা বিশ্বাস করবে না ?
(২১:৩০) নং আয়াতে ‘আন্নাছ্ ছামা-ওয়াতি’ বলতে সৃষ্টিকালীন প্রাথমিক পর্যায়ের এমন ‘এক আকাশমন্ডলীর’ কথা বোঝান হয়েছে যখন সপ্ত-আকাশের মধ্যকার সকল স্তর ও মহা-স্তরগুলো এবং পৃথিবীও একত্রিত অবস্থায় বিরাজ করছিল।
সূরা-হা-মীম-আস-সিজদা-আয়াত নং-১১
(৪১ : ১১) ছুম্মাছতাওয়া -ইলাছ্ছামা -য়ি ওয়া হিয়া দুখা নুন ফাক্বা-লা লাহা – ওয়ালিল আরদ্বিতিয়া তাওআন আও কারহা; কা- লাতা- আতাইনা- ত্বা -য়িঈন

Check Also

1-1

‘একজন একজন করে সেনা এসে আমাদের ২ বোনকে ধর্ষণ করেছে’

‘বিছানার সঙ্গে ওরা আমাদের দুই বোনকে বেঁধে রেখেছিল। এরপর একজন একজন করে সেনা এসে আমাদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *